| বঙ্গাব্দ

সুপার এল নিনো ২০২৬: ১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পূর্বাভাস | আবহাওয়া সংবাদ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-04-2026 ইং
  • 1014031 বার পঠিত
সুপার এল নিনো ২০২৬: ১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পূর্বাভাস | আবহাওয়া সংবাদ।
ছবির ক্যাপশন: সুপার এল নিনো ২০২৬:


আসছে ‘সুপার এল নিনো’: ১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা, পুড়বে কি বিশ্ব?

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

সময়: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ৩:৪৫

আবহাওয়াবিদদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রীষ্মে প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হতে যাচ্ছে এক শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Niño), যা ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্বের তাপমাত্রাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। শুধু গরম নয়, এর সাথে ধেয়ে আসছে খরা, বন্যা ও প্রলয়ংকরী ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

১. এল নিনো আসলে কী?

সহজ ভাষায়, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রের উপরিভাগের পানি যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে, তাকে এল নিনো বলা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যখন একে ‘সুপার এল নিনো’ বলছেন, তার মানে হলো সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বৃদ্ধি পাবে। ১৯৫০ সালের পর থেকে এমন ঘটনা হাতেগোনা মাত্র কয়েকবার ঘটেছে।

২. ১৪০ বছরের সবচাইতে শক্তিশালী প্রভাব!

আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পল রাউন্ডি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, ১৮৮০-এর দশকের পর এবারই সবচাইতে শক্তিশালী এল নিনোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব আবহাওয়া মডেল ও পর্যবেক্ষণ একই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে আগামী বছর বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার সব পুরনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে।

৩. কোথায় কী প্রভাব পড়বে?

এল নিনো অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে:

  • খরা ও তীব্র গরম: অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ খরা দেখা দিতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অ্যামাজনের রেইনফরেস্ট।

  • ভারী বৃষ্টি ও বন্যা: এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায়। সেখানে অতিবৃষ্টির ফলে বন্যার ঝুঁকি বাড়বে।

৪. অর্থনীতি ও জনজীবনে আঘাত

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) মহাসচিব সেলেস্ট সাউলো সতর্ক করেছেন যে, এল নিনোর কারণে কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং পানি ব্যবস্থাপনার ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ২০১৫ সালের সুপার এল নিনোর সময় ইথিওপিয়ায় যে ভয়াবহ খরা হয়েছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে ‘সুপার এল নিনো’ মানে হলো মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। খরা কাটাতে অস্বাভাবিক বৃষ্টি দরকার হবে, যা আবার বন্যার ঝুঁকি তৈরি করবে। অর্থাৎ, ধ্বংস ও প্রাণহানির এক দুষ্টচক্রে আটকে যেতে পারে ২০২৬-২৭ সালের বিশ্ব।


এক নজরে এল নিনোর পূর্বাভাস ২০২৬:

সূচকবর্তমান পরিস্থিতি
তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা৬২ শতাংশ (চলতি গ্রীষ্মেই)।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিস্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি বা তার বেশি হতে পারে।
প্রধান ঝুঁকিরেকর্ড তাপমাত্রা, খরা, বন্যা ও হ্যারিকেন।
সূত্রদ্য গার্ডিয়ান ও মার্কিন ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার।

উপসংহার: এখনই প্রস্তুতি জরুরি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। তবে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় এখনই বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে তীব্র গরম ও সম্ভাব্য বন্যার মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

আপনার জিজ্ঞাসা: আপনার এলাকায় কি বিগত বছরগুলোতে অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হচ্ছে? এই গ্রীষ্মের জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত? কমেন্টে জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency